মূল কন্টেন্টে যান
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
সর্বশেষ

চন্দনাইশে মাদকসহ আটক দুই তরুণকে রাজনৈতিক মামলায় চালান

সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২৬ পঠিত: ২১ বার
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের চন্দনাইশে স্থানীয় জনতার হাতে মাদকসহ আটক হওয়ার অভিযোগে ধরা পড়া দুই তরুণকে পরবর্তীতে একটি রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানোর ঘটনায় এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
রবিবার ২ আগস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া প্রায় ১ মিনিট ১১ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, চন্দনাইশ উপজেলার বরমা ইউনিয়নের বাইনজুরী এলাকায় স্থানীয় জনতা কয়েকজন তরুণকে আটক করেছে। ভিডিওতে উপস্থিত জনতা ও এক রিকশাচালকের কথোপকথনে আটক ব্যক্তিদের কাছে মাদকদ্রব্য থাকার দাবি করা হয়। এক পর্যায়ে একজনকে বলতে শোনা যায়, “চারজন চার কোণায় পাইছি… শরীরে পাইছি।” রিকশাচালকও দাবি করেন, আটক ব্যক্তিরা তাকে দ্রুত রিকশা চালাতে বাধ্য করেছিল এবং তাদের কাছে মাদকদ্রব্য ছিল।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আনিছ জানান, গত ১ আগস্ট মধ্যরাতে কানাইমাদারী এলাকার দুই তরুণকে স্থানীয়রা আটক করে এবং তাদের কাছ থেকে ইয়াবা উদ্ধার হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন। তবে ঠিক কতটি ইয়াবা পাওয়া গেছে, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন।
অন্যদিকে, পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আটককৃত কানাইমাদারী এলাকার জামশেদ আলম (২২) ও মেহেদী হাসান সিফাত (২৩)-কে একটি রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মাত্র ১৫-১৬ বছর বয়সে তারা একটি রাজনৈতিক মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
চন্দনাইশ থানা পুলিশের আদালতে দাখিল করা ফরওয়ার্ডিং প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত ১ আগস্ট দিবাগত রাতে বরকল ইউনিয়নের মৌলভীবাজার এলাকা থেকে ওই দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রতিবেদনে তাদের স্থানীয় ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী হিসেবে উল্লেখ করে ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন সংঘটিত হামলা, কেন্দ্র দখল, ককটেল বিস্ফোরণ, মারধর ও লুটপাটের ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামি হিসেবে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আসামিদের জামিন না দিয়ে জেলহাজতে পাঠানোর আবেদন করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চন্দনাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস. এম. দিদারুল ইসলাম সিকদার বলেন, “তাদের কাছ থেকে কোনো ধরনের ইয়াবা উদ্ধার করা হয়নি। তারা স্থানীয় যুবলীগের সক্রিয় কর্মী। দক্ষিণ জেলা যুবলীগের নেতা মিজানুর রহমানের সঙ্গে তাদের একাধিক ছবি রয়েছে। এছাড়া রাজনৈতিক মামলায় তাদের সম্পৃক্ততার তথ্য থাকায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।”

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *