মূল কন্টেন্টে যান
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
সর্বশেষ

উখিয়ায় ইউএনও পান্না আক্তার শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দিলেন গাছের চারা

সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২৬ পঠিত: ১৮ বার

এম,হাসান, কক্সবাজার প্রতিনিধি:- পরিবেশ সংরক্ষণে নতুন প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করতে কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার মরিচ্যাপালং উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

“বৃক্ষ রোপণ করি, সবুজ বাংলাদেশ গড়ি” প্রতিপাদ্যে সোমবার (৩ আগস্ট) সকালে আয়োজিত এ কর্মসূচির উদ্যোগ নেয় ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), কক্সবাজার জেলা প্রেসক্লাব, গ্রীণ কক্সবাজার, প্রান্তিক চাষী সমাজ উন্নয়ন সংস্থা এবং ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ। অনুষ্ঠানে প্রায় ৩৫০ জন শিক্ষার্থীর হাতে ৬০০টি বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার। প্রধান আলোচক ছিলেন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) কক্সবাজার জেলা শাখার আহ্বায়ক ও কক্সবাজার জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল কাদের চৌধুরী।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কক্সবাজার জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এইচ এম ফরিদুল আলম শাহীন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার বদরুল আলম, ধরা জেলা শাখার সহ-সদস্য সচিব ও সিনিয়র সাংবাদিক শামসুল আলম শ্রাবণ, জেলা শাখার সদস্য ও উত্তরণ মডেল কলেজের প্রভাষক রিয়াজ উদ্দিন, কক্সবাজার জেলা প্রেসক্লাবের সদস্য মো. ইউসুফ, স্টুডেন্ট প্ল্যান্টার্স ক্লাবের সমন্বয়ক শিক্ষক জসিম উদ্দিন, সিনিয়র শিক্ষক নজরুল ইসলাম, বিদ্যালয়ের প্ল্যান্টার্স ক্লাবের শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও পান্না আক্তার বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং নতুন প্রজন্মকে পরিবেশবান্ধব মানসিকতায় গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই। একজন শিক্ষার্থী যখন নিজের হাতে একটি গাছ রোপণ করে এবং নিয়মিত পরিচর্যা করে, তখন তার মধ্যে প্রকৃতি ও পরিবেশের প্রতি দায়িত্ববোধ তৈরি হয়।

তিনি আরও বলেন, “ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় ভালো ফল করলে বই, কলম বা ক্রেস্টের পাশাপাশি একটি গাছের চারা উপহার দেওয়া হবে। এতে শিক্ষার্থীরা যেমন উৎসাহিত হবে, তেমনি সবুজায়নও আরও বিস্তৃত হবে।”

প্রধান আলোচক বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল কাদের চৌধুরী বলেন, শিক্ষা ও পরিবেশ একে অপরের পরিপূরক। একটি সবুজ শিক্ষাঙ্গন শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ, সুস্বাস্থ্য ও পরিবেশ সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তিনি বলেন, “একটি গাছ ধ্বংস করা মানে মানবজীবন ও পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতি করা। তাই গাছ কাটার পরিবর্তে বেশি বেশি বৃক্ষরোপণ এবং পরিচর্যায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।”

বিশেষ অতিথি এইচ এম ফরিদুল আলম শাহীন বলেন, প্রকৃতি আমাদের প্রতিদিন যে অক্সিজেন বিনামূল্যে দিচ্ছে, তা কৃত্রিমভাবে সংগ্রহ করতে হলে বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হতো। তাই পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই।

তিনি আরও জানান, আজ যেসব শিক্ষার্থীর হাতে গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়েছে, আগামী ছয় মাস পর তাদের বাড়িতে গিয়ে রোপণকৃত চারার বৃদ্ধি ও পরিচর্যার অবস্থা মূল্যায়ন করা হবে। সেরা পরিচর্যাকারী শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করা হবে।

বিশেষ অতিথি প্রভাষক রিয়াজ উদ্দিন বলেন, শিক্ষা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনসম্পৃক্ত কর্মসূচি নিয়মিত আয়োজন করা হবে।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন মরিচ্যাপালং উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল করিম এবং সঞ্চালনা করেন ধরা কক্সবাজার জেলা শাখার সহ-সদস্য সচিব ও সিনিয়র সাংবাদিক শামসুল আলম শ্রাবণ।

আলোচনা সভা শেষে প্রধান অতিথির নেতৃত্বে অতিথিবৃন্দ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিভিন্ন প্রজাতির ঔষধি, ফলজ ও বনজ গাছের চারা রোপণ করেন। একই সঙ্গে প্রায় ৩৫০ শিক্ষার্থীর হাতে ৬০০টি গাছের চারা বিতরণ করা হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ এলাকায় গাছ রোপণ ও পরিচর্যার মাধ্যমে সবুজ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *