যশোরে প্রতারক চক্রের ২ সদস্য আটক, নগদ টাকা ও মালামাল উদ্ধার
যশোর অফিস
যশোরে অভিনব কৌশলে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রতারণা করে কোটি টাকার গমের ভূষি আত্মসাৎকারী চক্রের দুই সদস্যকে আটক করেছে জেলা পুলিশের সাইবার ইনভেস্টিগেশন টিম। এ সময় প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা গমের ভূষি বিক্রির ১০ লাখ ৩ হাজার টাকা, ৭৭ বস্তা গমের ভূষি, সাতটি মোবাইল ফোন, ৫১টি সিমকার্ড, দুটি ল্যাপটপ, একটি মোটরসাইকেল ও স্বর্ণের গহনা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় বুধবার রাতে কোতোয়ালি থানায় মামলা হয়েছে।
আটকরা হলেন পাবনা জেলার চাটমোহর উপজেলার নটাবাড়িয়া গ্রামের নুরু মোল্লার ছেলে মনিরুল ইসলাম এবং দোদারিয়া গ্রামের ইসমাইল হোসেনের ছেলে খালেক সরদার। মনিরুলকে যশোরের নাজির শংকরপুর এবং খালেককে পুরাতন কসবা এলাকা থেকে আটক করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পাবনার পুটে বাজারে অভিযান চালিয়ে খোয়া যাওয়া মালামালের একটি অংশ উদ্ধার করা হয়। তবে চক্রের আরেক সদস্য আবুল বাসার পালিয়ে যান।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ জুলাই প্রতারকরা নিজেদের কাজী ফার্মস লিমিটেডের ম্যানেজার ও পরিচালক পরিচয় দিয়ে চুয়াডাঙ্গার মেসার্স আর এস ইন্টারন্যাশনালের মালিক মানিক কুমার আগরওয়ালের সঙ্গে ৭৫ মেট্রিক টন গমের ভূষি কেনার চুক্তি করে। পরে ২২ ও ২৫ জুলাই পাঁচটি ট্রাকে গমের ভূষি সরবরাহ করা হয়। প্রতারকদের নির্দেশে ট্রাক ভাড়া, তথাকথিত সিকিউরিটি মানি ও ভ্যাটের নামে বিভিন্ন বিকাশ নম্বর এবং ব্যাংক হিসাবে টাকা পাঠানো হয়।
পরবর্তীতে আরও ৩০ হাজার টাকা দাবি করলে ব্যবসায়ীদের সন্দেহ হয়। পরে কাজী ফার্মসের যশোর কার্যালয়ে গিয়ে তারা জানতে পারেন, প্রতিষ্ঠানটি কোনো অর্ডার দেয়নি এবং ভুয়া পরিচয়ে প্রতারণা করা হয়েছে। ট্রাকচালকদের কাছ থেকে জানা যায়, চুড়ামনকাঠি এলাকায় ট্রাক থেকে গমের ভূষি নামিয়ে নেওয়া হয়েছিল। এতে প্রায় ৩৪ লাখ ১৯ হাজার ২৫৬ টাকার মালামাল আত্মসাৎ করা হয়।
অভিযোগের পর যশোর জেলা পুলিশের সাইবার ইনভেস্টিগেশন টিমের এসআই দেবব্রত ঘোষের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে দুই প্রতারককে আটক এবং খোয়া যাওয়া মালামালের একটি অংশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের দাবি, প্রতারক চক্রের পলাতক সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
