বেনাপোল দিয়ে পাঁচ চালানে ৮০মেট্রিক টন কাঁচামরিচ আমদানি, খুচরা বাজারে স্বস্তি
স্টাফ রিপোর্টার
বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ব্যাপক হারে কাঁচামরিচ আমদানি হওয়ায় প্রভাব পড়েছে বেনাপোলের খুচরা বাজারে। আজ রবিবার বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতিকেজি কাচাঁমরিচ বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়। যা গতকাল বাজারে প্রতিকেজি ১৮০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। এতে নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে।
বন্দর সূত্র জানা গেছে, বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে গত ৫ চালানে ৮০মেট্রিক টন কাঁচামরিচ আমদানি হয়েছে। গত সোমবার প্রথম চালানে রাত ৮টার দিকে একটি ভারতীয় ট্রাকে ৯.২ মেট্রিক টন, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দ্বিতীয় চালানে তিনটি ট্রাকে ৪২.২২ মেট্রিক টন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় একটি ট্রাকে ১৪ মেট্রিক টন ও শনিবার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় একটি ট্রাকে ১৫মেট্রিক টন কাচাঁ মরিচ বেনাপোল বন্দরের ৩১ নম্বর ট্রান্সশিপমেন্ট ইয়ার্ডে প্রবেশ করে। ফলে বাজারে কাচাঁ মরিচ প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়।
মরিচ আমদানিকারক আমিনুল ইসলাম জানান, বৈরী আবহাওয়া ও বৃষ্টির কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় কাঁচামরিচের খেত নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সরবরাহ কমে যায়। ফলে দেশের বাজারে কাঁচামরিচের দাম ৩০০ টাকা ছাড়িয়ে যায়।
তিনি জানান, ভারত থেকে প্রতি টন কাঁচামরিচ ৩০০ ডলার মূল্যে আমদানি করা হচ্ছে। আর কাস্টমস প্রতি টন কাঁচামরিচ শুল্কায়ন করছে ৫০০ ডলার মূল্যে। এতে কেজিপ্রতি প্রায় ৩৮ টাকার মতো শুল্ক পরিশোধ করতে হচ্ছে। সরকার শুল্ক কমিয়ে দিলে দেশের বাজারে কাঁচা মরিচের দাম আরও কমে যেতো।
বাজারে কাঁচামরিচ কিনতে আসা হাসান আলী বলেন, গতকাল শনিবার বাজার থেকে ১৮০ টাকা কেজি দরে কাঁচামরিচ কিনেছিলাম। আমদানি শুরুর এক দিনের ব্যবধানে দাম ১০০ টাকা কমেছে। ভারত থেকে আরও কাঁচামরিচ আমদানি হলে দাম আরও নিচে চলে আসবে, এতে আমাদের মতো মানুষদের অনেক সুবিধা হবে।
বাজারের বিক্রেতা কামরুল ইসলাম বলেন, সরবরাহ কম থাকায় কাঁচামরিচের দাম বেশ কিছুদিন ধরেই বাড়তি ছিল। গতকাল শনিবার আমরা ১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছি। আমদানি হওয়ায় বাজারে সরবরাহ বেড়েছে, দামও কমে গেছে। মোকামে কম দামে কিনতে পারায় আজ আমরা ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি করছি। দাম কমায় ক্রেতা বেড়েছে, বেচাকেনাও বেশ ভালো হচ্ছে।
বেনাপোল বন্দরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক রুহুল আমিন জানান, বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার অনুমতি দেয়ায় বেনাপোল বন্দর দিয়ে কাঁচামরিচ আমদানি শুরু হয়েছে। আমদানিকৃত কাঁচামরিচের নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা করে ছাড়পত্র দেয়া হচ্ছে। ফলে আমদানিকারকরা বন্দর থেকে পণ্য খালাস করে দ্রুত বাজারজাত করছেন।
