মূল কন্টেন্টে যান
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
সর্বশেষ

খাওয়ার বিল দিতে না পারায় কেটে নেওয়া হলো তরুণীর চুল, ভিডিও ভাইরাল

মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পঠিত: ৬ বার

খাবার ও পানীয়ের বিল পরিশোধ করতে না পারায় ১৮ বছর বয়সী এক তরুণীর মাথার চুল কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে থাইল্যান্ডের একটি বারের বিরুদ্ধে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশটিতে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।

স্থানীয় প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৫ আগস্ট ব্যাংককের পিংকলাও এলাকার একটি বারে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, তরুণীটি ভুয়া পরিচয়পত্র ব্যবহার করে বারে প্রবেশ করেন। সেখানে খাবার ও পানীয় গ্রহণের পর তার বিল দাঁড়ায় প্রায় ৬০ হাজার থাই বাথ, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ২ লাখ ২০ হাজার টাকারও বেশি।

বার কর্তৃপক্ষের দাবি, বিল পরিশোধ না করেই চলে যাওয়ার চেষ্টা করলে তরুণীকে আটকে রাখা হয়। তবে পুলিশে খবর না দিয়ে নিজেরাই বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেন বারকর্মীরা।

অভিযোগ অনুযায়ী, বকেয়া বিলের একটি অংশ পরিশোধের বিনিময়ে তরুণীর চুল বিক্রির একটি অনানুষ্ঠানিক চুক্তি করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, তরুণী একটি কথিত ‘হেয়ার পারচেজ কনট্রাক্টে’ সম্মতি দিচ্ছেন।

ভিডিওতে ক্যামেরার পেছনে থাকা এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, তরুণীর সুযোগ নেওয়া হচ্ছে না এবং তার চুলের বর্তমান বাজারমূল্য হিসাব করেই বিষয়টি করা হচ্ছে।

এরপর এক বারকর্মী বৈদ্যুতিক রেজর দিয়ে তরুণীর কাঁধ পর্যন্ত লম্বা কালো চুল কেটে ফেলেন। একপর্যায়ে তার মাথার প্রায় পুরো চুলই কামিয়ে দেওয়া হয়। কেটে নেওয়া চুল বিক্রি বা দান করার কথা ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর থাইল্যান্ডের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিষয়টি তদন্তের জন্য দেশটির সামাজিক উন্নয়ন ও মানব নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়কে বলা হয়েছে।

অনেকে বলছেন, তরুণীর বিরুদ্ধে বিল পরিশোধ না করার অভিযোগ থাকলেও বিষয়টি পুলিশের কাছে দেওয়া উচিত ছিল। বকেয়া বিল আদায়ের জন্য একজন গ্রাহকের চুল কেটে নেওয়া আইনগত ও নৈতিকভাবে কতটা গ্রহণযোগ্য, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

তবে কেউ কেউ আবার মন্তব্য করেছেন, পুলিশি বা ফৌজদারি ব্যবস্থার মুখোমুখি হওয়ার পরিবর্তে তরুণী তুলনামূলক কম শাস্তি পেয়েছেন। অন্যদিকে সমালোচকদের দাবি, বিল নিয়ে বিরোধ হলে আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে পুলিশের সহায়তা নেওয়াই উচিত ছিল।

ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর এ নিয়ে তদন্তের দাবি আরও জোরালো হয়েছে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *