মূল কন্টেন্টে যান
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
সর্বশেষ

কেন্দুয়ায় বোনের কাঁচা ধান ক্ষেতে মই দিলেন আপন ভাই

বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পঠিত: ১৪ বার
নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় বাবার দেয়া হেবা দলিলের সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের মধ্যে নিজের দাবি করা কৃষি জমিতে আমন ধানের চারা নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে আপন ভাইয়ের বিরুদ্ধে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়নের পোড়াবাড়ি গ্রামের পুকুরিয়া হাওরে সরেজমিনে গেলে ঘটনার দৃশ্য চোখে পড়ে।
ভুক্তভোগী আখলিমা আক্তার আঁখি জানান, দীর্ঘ ১৩ বছর পর মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর)
নিজের জমিতে ধানের চারা রোপণ করেন। কিন্তু পরেরদিন বুধবার সকালের দিকে তার আপন মেজো ভাই মো. কাঞ্চন মিয়া ওই জমিতে হালচাষ করে রোপণ করা ধানের চারাগুলো নষ্ট করে দিয়েছে।
এতে জমিতে লাগানো ধানের চারা কাদা-মাটির সঙ্গে মিশে নষ্ট হয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। ঘটনাটি পুলিশকে জানানো হয়েছে বলেও জানিয়েছেন আঁখলিমা।
আখলিমা আক্তার আঁখি পোড়াবাড়ি গ্রামের মৃত আলী হোসেন ফকির ওরফে আনছু মিয়ার একমাত্র মেয়ে। তার চার ভাই- নুরু মিয়া, কাঞ্চন মিয়া, (মৃত) দনাই মিয়া ও আবদুল কাদির।
আখলিমা বলেন- আমার পিতা মো. আলী হোসেন জীবিত থাকাকালে আমাকে কয়েকটি দাগে ২০১৩ সালের ৩১ জুলাই কেন্দুয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে হেবা দলিল করে দেন।
পরবর্তীতে আমার আপন ভাই কাঞ্চন মিয়া ২০১৫ সালের ৯ জুন একই সম্পত্তিসহ আরও কিছু জমি হেবা দলিলের মাধ্যমে নিজের নামে করে নেন। এরপর থেকেই জমির ভোগদখল নিয়ে ভাই-বোনের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। আমি আমার বাবার দেওয়া জমিতে চারা রোপণ করেছিলাম। কিন্তু বুধবার সকালে আমার ভাই কাঞ্চন হালচাষ করে সব চারা নষ্ট করে দিয়েছে। চারাগুলো কাদা-মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। আমি বিষয়টি পুলিশকে জানিয়েছি।
তিনি আরও বলেন, ১৩ বছর ধরে আমি আমার সম্পত্তি নিয়ে ঘুরছি। আগেও থানায় অভিযোগ করেছি। এরপরও সমস্যার সমাধান হয়নি। এখন আমার রোপণ করা ধানের চারাও নষ্ট করা হলো। আমি চাই, দলিলপত্র যাচাই করে প্রকৃত বিষয়টি বের করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হোক।
অভিযোগের বিষয়ে কাঞ্চন মিয়ার বক্তব্য জানতে তার বাড়িতে না পেয়ে মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ না করায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে পারিবারিক বিরোধ দীর্ঘদিনের বলে জানা গেছে। জমির প্রকৃত মালিকানা ও হেবা দলিলের বৈধতা নিয়ে কোনো আইনি বিরোধ রয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট দলিল ও ভূমি রেকর্ড যাচাই সাপেক্ষে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এই বিষয় কেন্দুয়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন- অভিযোগ পেয়েছি আইন অনুযায়ী ব্যবস্হা নেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *