মূল কন্টেন্টে যান
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
সর্বশেষ

পদ্মার স্রোতের তোড়ে দিক হারাল ফেরি ‘হামিদুর রহমান’, উদ্ধারকাজে আইটি জাহাজ 

সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পঠিত: ২০ বার
দৌলতদিয়া ঘাটে ভিড়তে না পেরে স্রোতের টানে কয়েক কিলোমিটার ভাটিতে ভেসে গেছে ফেরিটি। হঠাৎ এই দুর্ঘটনায় ফেরিতে অবস্থানরত যাত্রী ও গাড়ি চালকদের মাঝে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
সার্ভিস  (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
ঘাট সূত্রে জানা যায়, সকাল পৌনে ১০টার দিকে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাট থেকে যানবাহন ও যাত্রী নিয়ে দৌলতদিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেয় রো রো ফেরি ‘বীর শ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান’। ফেরিটি নদীর মাঝামাঝি পৌঁছালে পদ্মার প্রচণ্ড স্রোতের মুখে পড়ে এবং যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। ইঞ্জিন স্রোতের বিপরীতে সচল রাখতে না পারায় নৌযানটি নদীর নিচের দিকে ভেসে যেতে থাকে। পরবর্তীতে বড় ধরনের বিপদ এড়াতে চালক ফেরিটি ৭ নম্বর ফেরিঘাটের কয়েক কিলোমিটার ভাটিতে নোঙর করতে সক্ষম হন।
ভেসে যাওয়া ফেরির বর্তমান পরিস্থিতি বর্তমানে ফেরিটি ৭ নম্বর ঘাটের নিচের অংশে নোঙর করা অবস্থায় রয়েছে। ফেরিতে রয়েছে: ৮টি যাত্রীবাহী বাস,৪টি পণ্যবাহী ট্রাক,৩টি প্রাইভেটকার,শতাধিক সাধারণ যাত্রী।
উদ্ধার তৎপরতা ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য বিআইডব্লিউটিসি-এর উপ-মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহ্উদ্দিন জানান, “তীব্র স্রোতের কারণে মাঝেমধ্যে এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়। ফেরিটিকে নিরাপদে ঘাটে নিয়ে আসার জন্য ইতোমধ্যে একটি উদ্ধারকারী ‘আইটি জাহাজ’ পাঠানো হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ফেরিটি উদ্ধার করে যাত্রীদের নিরাপদে ঘাটে নামানো সম্ভব হবে।”
নৌপথের স্থায়ী ঝুঁকি ও যাত্রী দুর্ভোগ বর্ষা মৌসুমে পদ্মায় পানির প্রবাহ বৃদ্ধি ও তীব্র স্রোতের কারণে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে ফেরি চলাচল প্রায়ই ব্যাহত হয়। পুরোনো ফেরিগুলোর যান্ত্রিক সক্ষমতা কম থাকা এবং শক্তিশালী ইঞ্জিনের অভাবে নদী পারাপারে দ্বিগুণ সময় লাগছে। পাশাপাশি নাব্য সংকট ও ডুবোচরের কারণে ফেরিগুলোকে দীর্ঘ পথ ঘুরে চলতে হচ্ছে। স্থানীয় যাত্রী ও চালকদের দাবি—দুর্ঘটনা এড়াতে এবং যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ নৌপথে আধুনিক ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ফেরি বহর যুক্ত করা অত্যন্ত জরুরি।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *