মূল কন্টেন্টে যান
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
সর্বশেষ

ক্ষেতলালে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে এক সন্তানের জননীর অবস্থান

শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পঠিত: ৯ বার

জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে প্রেমিকের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে অবস্থান নিয়েছেন এক সন্তানের জননী সাবিনা ইয়াসমিন। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন সিয়াম। কিন্তু এখন অন্যত্র বিয়ে করায় তিনি সিয়ামের বাড়িতে অবস্থান নিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার রাত ১০টা থেকে উপজেলার মামুদপুর ইউনিয়নের মিনিগাড়ি পূর্বপাড়া গ্রামে সিয়ামের বাড়িতে অবস্থান করছেন সাবিনা ইয়াসমিন নামের ওই গৃহবধূ।

শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সিয়ামের বাড়ির সামনে অবস্থান করছেন সাবিনা ইয়াসমিন। এ সময় আশপাশের প্রতিবেশী ও স্থানীয় লোকজন সেখানে ভিড় করেন। তবে সিয়াম ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে তালা দিয়ে অন্যত্র চলে গেছেন বলে স্থানীয়রা জানান।

বিয়ে দাবিতে অবস্থান নেওয়া সাবিনা ইয়াসমিন উপজেলার মামুদপুর ইউনিয়নের মিনিগাড়ি গ্রামের শফিকুল ইসলামের স্ত্রী বলে জানা গেছে। তিনি জানান, প্রায় সাড়ে ছয় বছর ধরে স্বামী শফিকুল ইসলামের সঙ্গে তাঁর সংসার। তাঁদের চার বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। তাঁর স্বামী একটি এনজিওতে চাকরি করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিয়াম হিন্দা এলাকার আব্দুল লতিফের ছেলে। তিনি মিনিগাড়ি গ্রামে তাঁর নানা মরহুম মোজা ব্যাপারীর বাড়িতে বসবাস করতেন। প্রতিবেশী হিসেবে পরিচয়ের সূত্র ধরে প্রায় দুই বছর আগে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে দাবি করা হচ্ছে।

সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে সিয়াম আমার সঙ্গে সম্পর্ক করেছে। একপর্যায়ে সে আমার ঘরেও আসা-যাওয়া করত। একদিন আমার এক প্রতিবেশী তাকে ঘরে দেখে ফেলেন। তখন সিয়াম আমাকে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সেখান থেকে চলে যায়। এরপরও সে আমাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে সম্পর্ক বজায় রাখে।

তিনি আরও বলেন, হঠাৎ জানতে পারি, সিয়াম অন্য একটি মেয়েকে বিয়ে করতে ধাওয়াপাড়া কাপাসটিকরি গ্রামের এক প্রবাসীর মেয়ের বাড়িতে গেছে। এ খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে আমি সিয়ামের বাড়িতে এসে অবস্থান নিয়েছি। সিয়াম না আসা পর্যন্ত আমি এখান থেকে যাব না।

তবে আবেগের বশে সাবিনা ইয়াসমিন আত্মহত্যার কথাও বলেছেন বলে স্থানীয়রা জানান।

অভিযোগের বিষয়ে সিয়ামের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

স্থানীয় বিএনপি নেতা সাকিলুর রহমান তালুকদার বলেন, বিষয়টি নিয়ে থানা-পুলিশ ও স্থানীয় ইউপি সদস্যের সঙ্গে কথা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান হয়নি।

ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুক্তারুল আলম বলেন, ঘটনাকি শুনেছি এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। স্থানীয়ভাবে সমাধান না হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *