প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ মাসের উন্নয়নযাত্রা নিয়ে রোটারিয়ান নাজমুল হাসানের সম্পাদিত গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন
রুকন উদ্দিন:
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের প্রথম পাঁচ মাসের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন উদ্যোগ ও আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণের ভাবনা নিয়ে ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের পাঁচ মাসের উন্নয়নযাত্রা’ শীর্ষক একটি গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ইয়ূথ ফোরামের উদ্যোগে প্রকাশিত গ্রন্থটির মোড়ক উন্মোচন উপলক্ষে শনিবার (৮ আগস্ট ২০২৬) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির তৃতীয় তলায় ক্র্যাব মিলনায়তনে ‘আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সকাল ১০টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক নেতা, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। গ্রন্থটির সম্পাদক ও প্রকাশক রোটারিয়ান এম. নাজমুল হাসান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। তাঁর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (মন্ত্রীর পদমর্যাদায়) অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম, যিনি বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা, জিয়া মঞ্চ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা, সংসদ সদস্য (সংরক্ষিত নারী আসন); বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিন এবং জিয়া মঞ্চ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. ফয়েজ উল্লাহ ইকবাল। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ ইয়ূথ ফোরামের সভাপতি মুহাম্মদ সাইদুর রহমান।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, উন্নয়ন ও জনগণের প্রত্যাশা পূরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, দেশের মানুষ পরিবর্তনের প্রত্যাশা নিয়ে সরকারের দিকে তাকিয়ে আছে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকারের পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মী ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। বইটির সম্পাদক রোটারিয়ান এম নাজমুল হাসানের ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি।
প্রধান আলোচক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক নেতৃত্বকে জনগণের প্রত্যাশার প্রতি সংবেদনশীল থাকতে হবে।তিনি বলেন, উন্নয়নকে টেকসই করতে হলে মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। রাষ্ট্রের উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণকে কেন্দ্র করেই আগামীর বাংলাদেশ নির্মাণ করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে গ্রন্থটির সম্পাদক ও প্রকাশক রোটারিয়ান এম. নাজমুল হাসান বলেন, দেশের চলমান রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় পরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ সময়কে প্রামাণ্যভাবে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। সেই লক্ষ্য থেকেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের প্রথম পাঁচ মাসের বিভিন্ন উন্নয়ন উদ্যোগ, কর্মকাণ্ড ও রাষ্ট্র পরিচালনার ধারাকে একটি গ্রন্থের মাধ্যমে তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, একটি দেশের উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো নির্মাণ বা অর্থনৈতিক অগ্রগতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে রাষ্ট্রের সুশাসন, মানুষের অধিকার, জবাবদিহিতা, প্রশাসনিক দক্ষতা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, সামাজিক নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি টেকসই রাষ্ট্র গড়ে তোলার বিষয়ও জড়িত। এসব বিষয়কে সামনে রেখে ‘পাঁচ মাসের উন্নয়নযাত্রা’ গ্রন্থটি সম্পাদনা করা হয়েছে।
গ্রন্থটির সম্পাদক রোটারিয়ান এম. নাজমুল হাসান আরও বলেন,“আমি মনে করি, একটি সরকারের কার্যক্রম শুধু বর্তমান সময়ের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছেও নথিভুক্ত থাকা প্রয়োজন। সেই চিন্তা থেকেই এই গ্রন্থ সম্পাদনার উদ্যোগ নিয়েছি। পাঁচ মাসের সময়কে কেন্দ্র করে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ, উন্নয়ন ভাবনা এবং আগামীর বাংলাদেশ নিয়ে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তা পাঠকের সামনে তুলে ধরাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য।”তিনি বলেন, বাংলাদেশ ইয়ূথ ফোরাম তরুণদের একটি দায়িত্বশীল ও ইতিবাচক শক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে। তরুণ সমাজকে দেশের উন্নয়ন, গণতন্ত্র, সুশাসন ও সামাজিক অগ্রগতির সঙ্গে সম্পৃক্ত করা গেলে বাংলাদেশ আরও দ্রুত এগিয়ে যাবে।
রোটারিয়ান এম. নাজমুল হাসান বলেন, ‘আগামীর বাংলাদেশ’ শুধু একটি রাজনৈতিক স্লোগান নয়; এটি একটি উন্নত, সমৃদ্ধ, মানবিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রের স্বপ্ন। এ স্বপ্ন বাস্তবায়নে রাজনৈতিক নেতৃত্বের পাশাপাশি তরুণ প্রজন্ম, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম, পেশাজীবী ও সাধারণ জনগণকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখতে হবে।তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা হচ্ছে এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা, যেখানে মানুষের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত হবে, প্রশাসন হবে জনবান্ধব এবং উন্নয়নের সুফল সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছাবে।তাঁর বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হলে দল-মত নির্বিশেষে দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, তবে জাতীয় উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণের প্রশ্নে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
গ্রন্থটির সম্পাদক এম. নাজমুল হাসান বলেন, বর্তমান সময়ের ঘটনাপ্রবাহ ভবিষ্যতের গবেষক, শিক্ষার্থী, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হয়ে উঠতে পারে। তাই সরকারের প্রথম পাঁচ মাসের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে একটি গ্রন্থের মাধ্যমে সংরক্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে।তিনি বলেন,“একটি সময়কে ধরে রাখা যায় তার দলিলের মাধ্যমে। আমরা সেই কাজটিই করার চেষ্টা করেছি। এই বই ভবিষ্যতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও উন্নয়ন-অগ্রযাত্রা নিয়ে যারা গবেষণা করবেন, তাদের জন্য একটি সহায়ক দলিল হিসেবে ভূমিকা রাখবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”তিনি আরও বলেন, গ্রন্থ সম্পাদনার ক্ষেত্রে বিভিন্ন তথ্য, বক্তব্য ও সংশ্লিষ্ট বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একটি নির্দিষ্ট সময়ের কর্মকাণ্ডকে পাঠকের সামনে ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে, যাতে পাঠক বাংলাদেশের চলমান পরিবর্তনের একটি সামগ্রিক চিত্র পেতে পারেন।
বাংলাদেশ ইয়ূথ ফোরামের কার্যক্রম প্রসঙ্গে এম. নাজমুল হাসান বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণে তরুণদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তরুণদের মধ্যে দেশপ্রেম, দায়িত্ববোধ, নেতৃত্বের গুণাবলি ও সামাজিক সচেতনতা তৈরি করতে হবে।তিনি বলেন, আগামীর বাংলাদেশ কেমন হবে তা অনেকাংশেই নির্ভর করবে আজকের তরুণদের চিন্তা, মেধা, দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার ওপর। তাই তরুণদের শুধু রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নয়, শিক্ষা, গবেষণা, প্রযুক্তি, উদ্যোক্তা সৃষ্টি, সামাজিক উন্নয়ন ও মানবিক কর্মকাণ্ডেও সম্পৃক্ত হতে হবে। তিনি বলেন,“তরুণরাই আগামী দিনের বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবে। তাদের সামনে একটি ইতিবাচক, উন্নত ও সম্ভাবনাময় বাংলাদেশের স্বপ্ন তুলে ধরতে হবে। একই সঙ্গে সেই বাংলাদেশ নির্মাণে তাদের দায়িত্ব সম্পর্কেও সচেতন করতে হবে।”
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথিরা ‘আগামীর বাংলাদেশ’ নির্মাণে তরুণ প্রজন্মের ভূমিকা, সংস্কৃতি ও সৃজনশীলতার বিকাশ, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, সামাজিক দায়িত্ববোধ এবং উন্নয়ন কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক নিয়ে বক্তব্য রাখেন।বক্তারা বলেন, একটি দেশের উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে রাজনৈতিক নেতৃত্বের পাশাপাশি নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যম, বুদ্ধিজীবী, তরুণ সমাজ ও পেশাজীবীদের সম্মিলিত ভূমিকা প্রয়োজন। দেশের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণকে সামনে রেখে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক নেতা ও বাংলাদেশ ইয়ূথ ফোরামের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের পাঁচ মাসের উন্নয়নযাত্রা’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
উল্লেখ্য, রোটারিয়ান এম. নাজমুল হাসান সম্পাদিত ও প্রকাশিত গ্রন্থটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের প্রথম পাঁচ মাসের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি নিয়ে সংকলিত হয়েছে। গ্রন্থটির মাধ্যমে সমসাময়িক রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ড ও উন্নয়ন ভাবনাকে সংরক্ষণ এবং পাঠকের কাছে তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশিষ্ট লেখক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক, রাষ্ট্রচিন্তক, কলামিস্ট ও বাংলাদেশ জাতীয় ব্যাডমিন্টন ফেডারেশনের সহ-সভাপতি রোটারিয়ান এম নাজমুল হাসান।
