মূল কন্টেন্টে যান
শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩
সর্বশেষ

জামায়াতের এখন লং মার্চ করা ম্যাচিউর রাজনীতির প্রমাণ নয়: মাহফুজ আনাম

শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পঠিত: ৪ বার
দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে জামায়াত জোটের রাস্তায় নামাটা ‘ম্যাচিউর’ রাজনীতির প্রমাণ নয় বলে মনে করেন দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক ও প্রকাশক মাহফুজ আনাম। তিনি বলেছেন, জুলাই সনদ কেন বাস্তবায়ন করল না—এই মুহূর্তে আমি রাস্তায় নেমে যাব, আমি মনে করি এটা একটু ‘ইমমেচিওর’।

আমি মনে করি, বিরোধীরা সরকারের বেকায়দার পজিশনে এডভান্টেজ নেওয়ার চেষ্টা করছে। সমস্ত রাজনৈতিক দলের বুঝতে হবে যে, এই সময় দেশটা কি সংকটের সামনে আছে।পত্রিকাটির নিয়মিত পডকাস্ট ‘সম্পাদক কহেন’-এ মাহফুজ আনাম বলেন, এই মুহূর্তে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন একটা স্টেবল সরকার। জামায়াতের অনেক অভিযোগ আছে, তো পার্লামেন্টে অভিযোগ করো।

পার্লামেন্টে অভিযোগ করতে করতে তুমি জনগণের কাছে বলতে থাকো যে, দেখেন আমরা পার্লামেন্টে এটা উত্থাপন করছি, সরকার কিছুই পাত্তা দিচ্ছে না- এভাবে করতে থাকো। তারপরে সংকটটা যখন একটু নিরশন হবে, তখন তুমি রাস্তায় নামো। আজকেই রাস্তায় নামতে হবে? আমি খুব শক্তভাবে বলব যে, এটা ম্যাচিওরড পলিটিক্স আমি মনে করি না। দুর্বল একটা মুহূর্তে এডভান্টেজ নিয়ে সরকারকে আরো কোণঠাসা করা- এটা গণতান্ত্রিক রাজনীতি এবং দেশের ভালোর রাজনীতির অংশ বলে মনে করি না।
মাহফুজ আনাম বলেন, আমি যে গ্যাস কিনবো, এলএমজি কিনব তার জন্য প্রত্যেকদিন আমাকে ডলার ব্যয় করতে হচ্ছে। সেই ডলারটা আয় হয় রপ্তানির মাধ্যমে আর বিদেশে কাজ করা প্রবাসীদের মাধ্যমে। এই সমস্যার মধ্যে আন্তর্জাতিক জিনিসগুলো আরো বেশি কেউটিক হচ্ছে। এখন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপরে বোমবিং করছে। ওদিকে ইসরায়েল লেবাননে হামলা করছে।

দুটি শিপিং লেন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তো এই সময়ে জুলাই সনদ কেন বাস্তবায়ন করলো না- এই মুহূর্তে আমি রাস্তায় নেমে যাব, আমি মনে করি এটা একটু মানে ইমমেচিওর। আমি মনে করি, বিরোধীরা সরকারের এই বেকায়দার পজিশনে এডভান্টেজ নেওয়ার চেষ্টা করছে। 

তিনি বলেন, একটা জিনিস আমাদের মনে রাখতে হবে যে, জুলাই আন্দোলনের পরে আমাদের কিন্তু জনগণের মধ্যেও উশৃঙ্খলতার একটা টেন্ডেন্সি আছে যে, কিছু না হলে রাস্তায় নামবো। যেমন জামায়াতের আমির বলেছেন যে, আমাদের দাবি না মানলে একদফা হয়ে যাবে। তো এক দফা তো বুঝি। এর মানে কি- সরকারকে পতন করতে হবে। সরকারকে একদম বহিষ্কার করে দিতে হবে। এটা কি বাংলাদেশের এডমিনিস্ট্রেশন বাংলাদেশের ভাবমূর্তির জন্য কোনভাবেই এটা গ্রহণযোগ্য?

তিনি বলেন, আমি মনে করি না যে, সরকার জুলাই সনদ থেকে একদম সরে যাচ্ছে। কিন্তু তাদের যে উদ্যোগ এটাতে যথেষ্ট সন্দেহ করার কিন্তু উপকরণ আছে। উনারা যে একটা কমিটি করেছেন- সংবিধান ‘সংশোধন’ কমিটি। তো একটা শব্দ নিয়ে জামায়াত চলে গেল যে, না আমি তো এটা পরিবর্তন চাচ্ছি। ‘সংস্কার’ পরিষদ চাচ্ছি। তো এই দুই শব্দের (‘সংশোধন’ ও ‘সংস্কার’) মধ্যে এত কি পার্থক্য যে, তারা চলেই যাবে?

তিনি উল্লেখ করেন, আমি সরকারের কথাও বলব যে, তাদের আরো বেশি উচিত ছিল উদ্যোগী হওয়া যে, বিরোধীদের সঙ্গে কথা বলা। কোন কোন জায়গায় বিরোধীদের দাবিটা ছাড় দেওয়া যায়, ওইসব জায়গায় ছাড় দেওয়া। আমি মনে করি, সরকারের দৃষ্টান্তটা খুব আশাব্যঞ্জক নয়। আরেকটা বিষয়, যে কয়েকটা ফান্ডামেন্টাল অর্ডিনেন্স আগে বাতিল হয়ে গেছে যেমন : হিউম্যান রাইটস কমিশন, গুম কমিশন- এইসব জায়গায় সরকারকে আরেকটু ছাড় দেওয়া উচিত ছিল।

নির্বাচনের মাত্র পাঁচ ছয় মাস গেছে। পাঁচ বছরের আগেই সরকার ফেলে দেওয়ার প্রশ্নটা- এটা গণতন্ত্রসম্মত হতে পারে না বলে উল্লেখ করেন মাহফুজ আনাম। তিনি বলেন, এটা ইমমেচিওর পলিটিক্স। সরকারকে তুমি পাঁচ মাস, ছয় মাসের মাথায় বলবা ‘এক দফা’। তহলে স্টেবিলিটি কোথা থেকে আসবে? স্টেবিলিটি ছাড়া বিদেশি ইনভেস্টমেন্ট বাংলাদেশে আসবেই না।

জামায়াত যে সমস্যাগুলোর কথা বলছে বিদ্যুতের সংকট, গ্যাস সংকট- এর সমাধান কি তারা দিতে পারছে? কিংবা এ বিষয়ে কোনো প্রস্তাব কি তাদের আছে? এমন প্রশ্নে মাহফুজ আনাম বলেন, ‘আমার জানা মতে নেই। একেবারেই নাই।’

তিনি বলেন, জামায়াত বলছে সরকারকে উৎখাত করব। সরকার বলছে এটা একটা ষড়যন্ত্র। তো আমি কিন্তু আগের ডায়লগেই চলে যাচ্ছি- সরকার উৎখাত, ষড়যন্ত্র; কেউ কাউকে বিশ্বাস করছে না। উভয় পক্ষ থেকে একই ধরনের বক্তব্য। তবে এখানে বলব, যেহেতু সরকারের মেজরিটি বেশি পার্লামেন্টে, সরকারকেই দায়িত্বের প্রমাণ দিতে হবে। তারা তো ক্ষমতায় আছে, তো বিরোধীদের সঙ্গে কম্প্রমাইজ করতে তাদের সমস্যাটা কোথায়? বাধা থাকা উচিত না। সূত্র-কালেরকণ্ঠ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *